ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৪৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ইউরোপকে দুর্বল করছে: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 3 বার
Link Copied!

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ পরোক্ষভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দুর্বল করতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেন। তুর্কি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতির বরাতে এএফপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

এরদোয়ান মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ইউরোপের ওপরও পড়তে শুরু করেছে।

জার্মান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপকালে এরদোয়ান বলেন, আমাদের অঞ্চলে চলমান এই যুদ্ধ একইভাবে ইউরোপকেও দুর্বল করে দিচ্ছে। আমরা যদি শান্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই পরিস্থিতির সমাধান করতে না পারি, তবে সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধের বিস্তৃতি রোধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই সংঘাতের অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক নেতিবাচক প্রভাব থেকে ইউরোপের দেশগুলোও রেহাই পাবে না।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তুরস্ক শুরু থেকেই এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এরদোয়ানের মতে, জ্বালানি সংকট এবং শরণার্থী সমস্যার মতো বিষয়গুলো ইউরোপের স্থিতিশীলতাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলছে, যা এই যুদ্ধেরই পরোক্ষ ফল।

আঙ্কারা মনে করে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপগুলো মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করছে, যা শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। তাই অবিলম্বে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

জার্মান প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এরদোয়ানের এই উদ্বেগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তুরস্কের এই সতর্কবার্তা পশ্চিমা মিত্রদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশেষ করে যখন ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেরাই অর্থনৈতিক মুদ্রাস্ফীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন নতুন এই যুদ্ধ পরিস্থিতি তাঁদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আঙ্কারার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত করতে তুরস্ক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।