ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ জুন ২০২২

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিজিবির ত্রাণ বিতরণ

Link Copied!

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হেলিকপ্টারযোগে সুনামগঞ্জ জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অসহায় বানভাসি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে।

আজ সকালে বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনায় বিজিবি সদর দপ্তর থেকে হেলিকপ্টারযোগে ত্রাণ নিয়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বানভাসি মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার জন্য বিজিবি সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে হেলিকপ্টার থেকে সরাসরি না ফেলে তাহিরপুর উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী টেকেরহাট ও চানঁপুর এলাকার বন্যাদুর্গত ১০০০ পরিবারের প্রায় ৫০০০ জন অসহায় বানভাসি মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বিজিবি সদস্যদের কাছে এসব ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলতঃ সারাদেশে বিজিবি কর্তৃক বন্যাদুর্গত অসহায় জনগোষ্ঠীর উদ্ধার এবং বিজিবি’র অব্যাহত ত্রাণ তৎপরতা কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করতেই বিজিবি সদর দপ্তর কর্তৃক আজকের এই হেলি মিশন পরিচালনা করা হয়।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসি অসহায় জনগোষ্ঠীর উদ্ধার তৎপরতা ও তাদের মাঝে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে বিজিবি। আজ বিজিবি’র সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের তত্বাবধানে তাহিরপুর উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী বন্যাদুর্গত টেকেরহাট এলাকায় ৩৫০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী, সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন সদরের আশেপাশে বিভিন্ন এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ২০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার এবং ১০০০ বোতল বিশুদ্ধ পানি বিতরণ; সিলেট ব্যাটালিয়নের তত্বাবধানে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বন্যাদুর্গত সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জ এলাকার ২০০টি অসহায় পরিবার; বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের তত্বাবধানে সীমান্তবর্তী নয়াগ্রাম এলাকার বন্যাদুর্গত ৩০টি পরিবার এবং সীমান্ত পরিবার কল্যাণ সমিতি (সীপকস), কুড়িগ্রাম উপশাখা কর্তৃক ধরলা নদীর পার সংলগ্ন বন্যাকবলিত ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সীমান্তবর্তী বন্যাকবলিত অসহায় প্রান্তিক জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে বিজিবি। সিলেট ও সুনামগঞ্জ ছাড়াও লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা সহ বন্যাকবলিত বিভিন্ন স্থানে বিজিবি বন্যার্তদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিজিবি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য দুটি টোল ফ্রি নম্বর চালু করেছে।

আরও উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন ২০২২ তারিখ থেকে অদ্যাবধি বন্যাদুর্গত এলাকার প্রায় ২০০০ জন মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে বিজিবি। এ সময়ে বন্যাদুর্গত এলাকার ৭,৯৪২টি পরিবারের ৩১,৭৬৮ জন অসহায় বানভাসি মানুষের মাঝে শুকনো ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, ৪২৫০ জনকে রান্না করা খাবার এবং ৬০৯০ বোতল বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া বন্যাদুর্গত এলাকার ২,৬৬০ জন জনসাধারণকে জরুরি চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করেছে বিজিবি।