ঢাকাবৃহস্পতিবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মডেল পৌরসভা গঠনে পৌরবাসীর সহযোগীতা চেয়েছেন মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান  

আলী আজীম,মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।
নভেম্বর ২৪, ২০২১ ৩:১৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 161 বার
Link Copied!

 

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিনে খুলনা হতে প্রায় ৫৫.০০ কি:মি: দুরত্বে সমুদ্র থেকে খুবই নিকটবর্তী (প্রায় ৫০.০০ কি:মি) বাংলাদেশের দ্বিতীয় সামুদ্রিক বন্দর মোংলাকে কেন্দ্র করে পশুরনদীর কোলঘেষে ততকলীন চাঁদপাই ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়ন হতে ১৯.৪৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকার সমন্বয়ে গড়ে উঠে অপার সম্ভাবনাময় মোংলা পোর্ট পৌরসভা।

নানা কারনে এ পৌরসভার গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে সুন্দরবন যা পৃথিবীর সর্ববৃহতম্যানগ্রোভ বনভূমি হিসেবে পরিচিত, প্রকৃতির এই নিস্ব:র্গভান্ডার মোংলা পোর্ট পৌরসভার কাছাকাছি হওয়ার কারনে বসন্ত ও শীত মৌসুমে অসংখ্য দেশীবিদেশী পর্যটকদের আগমনে এ অঞ্চলটি মুখরিত থাকে।

তাছাড়া ভ্রমন পিপাষুদের দর্শনীয়স্থান যেমন; হিরণপয়েন্ট, আকরাম পয়েন্ট, দুবলারচর, আলোর কোল, হারবাড়িয়া, করমজল,কটকা, কচিখালী, টাইগার পয়েন্ট, জয়মনিরঘোল, এবং সুন্দরবনের অভ্যন্তরিন অনেক প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য দেখার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান হতে তথা বিভিন্ন দেশের পর্যটকগণ মোংলা পোর্ট পৌরসভা হয়ে এ স্থান পরিদর্শন করে থাকেন।

যে কারনে এ পৌরসভাটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও বিভিন্ন দেশের কাছে অনেক গুরুত্ব বহন করে কিন্তু অমিত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়ন ও প্রচেষ্টার অভাবে গুরুত্ত্বপূর্ণ এই পৌরসভাটি ক্রমান্বয়ে পশ্চাতপদ হয়ে রয়ে গেছে। সেই ১৭৭৫ সাল হতে পৌরসভা সৃষ্টি হওয়ারপর থেকে যথাযথ উন্নয়নের অভাবে নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। বিগত পৌর পরিষদের অপরিকল্পিত কার্যক্রম এবং সীমাহীন উদাসিনতার কারণে পৌরসভাটি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল।

বাগেরহাট জেলার মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র ও পৌর আ’লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান বলেছেন, শহর থেকে মাদক গ্রামে প্রবেশ করেছে। যেকোনো সুবিধা শহরের মানুষ যেমন আগে পান, পরে তা ক্রমান্বয়ে গ্রামে এসে পৌছায়। ঠিক তেমনি করে মাদক শহর থেকে এখন গ্রামে এসে পৌঁছাচ্ছে।

তিনি বলেন, মোংলা পৌরসভাটি একটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। এ পৌরসভার অধিকাংশ মানুষই গার্মেন্টস এ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অত্যন্ত পরিশ্রমী এ অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু যুবকদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাটিতে। এখন মোংলার বেশ কয়েকটি স্পটে বিভিন্ন মাদক বিক্রি হয়। এতে করে ওই পরিশ্রমী মানুষগুলোর স্বপ্ন শেষ হয়ে যাচ্ছে।

মাদকে কেড়ে নিচ্ছে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত। তাই এই এলাকার সাধারণ জনগন ও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এই মাদক নির্মূল করাই আমার বড় টার্গেট।

তিনি বলেন, এর বাইরে পৌর নাগরিককে সেবা দেওয়া, এলাকার উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সারা দেশেই বর্তমান সরকার উন্নয়ন করে যাচ্ছে। আমিও আপ্রাণ চেষ্টা করে এ এলাকার রাস্তাঘাট, মসজিদ মন্দিরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে ভূমিকা রাখবো।

বৈশ্বিক করোনা মহামারীতেও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল ও শহর পরিচ্ছন্ন রাখা, করোনায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বচ্ছতার সাথে সরকারি সহায়তা বিতরণ নিশ্চিত করতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমানকে সবসময় সক্রিয় দেখা গেছে।

শেখ আঃ রহমান বলেন, পৌরসভার যাত্রা শুরু ১৯৭৫ সালে কিন্তু পৌরভবন হয়নি ৪৫ বছরেও- এ আমি দেখেছি। তাই কথা দিয়েছিলাম যেকোনো মূল্যে পৌরভবন করবো। এরই মধ্যে তার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছি। শিগগিরই পৌরসভার নিজস্ব জমি ও ভবন হবে।

৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ২১.৩৩ বর্গ কিঃ মিঃ আয়তনের মোংলা পোর্ট পৌরসভার জনসংখ্যা একলক্ষ দশ হাজার। বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩১ হাজার ৫২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬ হাজার ৬৮১ ও মহিলা ভোটার ১৪ হাজার ৮৪৭ জন। মোংলা পোর্ট পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইভিএমে নির্বাচন ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারী বিএনপি প্রার্থী মোঃ জুলফিকার আলীকে পরাজিত করে ১১ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান। প্রতিটি ওয়ার্ডে ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে পৌর এলাকার সড়ক পাকাকরণ, প্রশস্তকরণ, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, কবরস্থান সংস্কার, সড়কবাতি স্থাপন, মসজিদ-মক্তব উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা, পৌর শহরের বিভিন্ন স্থাপনা করাসহ শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান। দল-মত নির্বিশেষে পৌর এলাকায় সুষম উন্নয়নের কারণে পৌরবাসীর মধ্যে তার সুনাম রয়েছে।

তিনি বলেন, গত দীর্ঘদিন মোংলা পৌরসভায় বিএনপির মেয়র দায়িত্বে ছিলেন। তারা নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন করেছেন। পৌরসভার দিকে ঘুরেও তাকাননি। কোনো উন্নয়ন হয়নি পৌর এলাকায়। একটি জরাজীর্ণ ভবনে চলে পৌরসভার কার্যক্রম। তাই এবার এর পরিবর্তন করবো।

প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। ভোটাররা তাদের রায় পরিবর্তনে মরিয়া হয়েছিলেন। তারা যে কোনো সেবা পাননি, তা ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকেই রাজনীতিতে আসা। পড়াশোনা শেষ করে বন বিভাগে চাকরিতে যোগ দেই। এরপর চাকরি ছেড়ে অবসরে গিয়েছি।

এরপর ভাবলাম, মানুষের সেবা করবো। তবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে, চাকরি জীবনেও যতোটুকু পেরেছি আদর্শ ধরে রেখেছিলাম। কিন্তু নিয়ম-নীতির কারণে তার প্রকাশ করতে পারি নাই।

তিনি বলেন, আমার বর্তমান বয়স ৬৮ বছর। শেষ জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। মানুষের মাঝে থেকে তাদের সেবা করেই বাকি জীবন যেন কাটিয়ে দিতে পারি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের চেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেয়র, চেয়ারম্যান, মেম্বারগন সাধারণ মানুষের বেশি কাছে থাকেন। তাই কথা বলার সুযোগ বা দাবি করার সুযোগটাও মানুষ এখানেই বেশি পান। স্থানীয় সরকারের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতাও তাই অনেক বেশি।

জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রূপরেখার আলোকে আজ দল-মত নির্বিশেষে পৌরবাসী সরকারের উন্নয়নের সুফল ভোগ করছেন। আধুনিক উন্নত নাগরিক সুবিধা ও দৃষ্টিনন্দন মডেল পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে পৌরবাসীর সহযোগীতা কামনা করেন মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান।

তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করে অনেক সুবিধা হয়েছে। পাশাপাশি এটাও বোঝা গেছে যে, বিএনপি তাদের যে জনপ্রিয়তার কথা বলে, সেটা শুধু মুখের কথাই। কাজে তেমন জনপ্রিয়তা নেই, এ নির্বাচনে কিন্তু সেটা স্পষ্ট হয়েছে।

 

x