ঢাকাবুধবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রেমের টানে স্বামীর ঘরত্যাগ :৫ মাস পর তরুণীর আত্নহত্যা  

তাসকিয়া তাবাস্সুম ( ডেস্ক নিউজ)
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২১ ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
পঠিত: 85 বার
Link Copied!

ঢাকা: প্রেমের টানে স্বামীর ঘর ছেড়েছিলেন ১৯ বছরের লামিয়া। নতুন সংসার পাতলেন কাঙ্ক্ষিত প্রেমিকের সাথে। তারপর সাবলেট বাসায় শুরু হলো টোনাটুনির সংসার। স্বামী হৃদয় গ্যারেজে গাড়ির পেইন্টিংয়ের কাজ করেন। আর হাস্যোজ্জ্বল লামিয়ার সময় কাটে টিকটক ভিডিও বানিয়ে। কিন্তু পাঁচ মাস যেতে না যেতেই হঠাৎ বাসা থেকে লামিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার।

লামিয়ার বোন মকসুদা আক্তার গ্রাম থেকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় এসেছিলেন। একের পর এক ফোন করে লামিয়া-হৃদয়ের কাউকেই না পেয়ে তাদের বাসায় যান। দেখেন বাসা তালাবদ্ধ। এরপর পুলিশ এসে দরজা ভাঙতেই দেখা গেল, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো লামিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ ঝুলছে ফ্যানের সঙ্গে।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রামপুরার একটি বাসায় সাবলেট ওঠে লামিয়া-হৃদয় ফকির। জামতলা পানির পাম্পের পাশের ১৩৮/৪/৫/ নং বাসার চার তলায় থাকতো লামিয়া-হৃদয়।

ADVERTISEMENT

পুলিশ জানায়, ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। ২২ সেপ্টেম্বর দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ঝুলন্ত অবস্থায় লামিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লামিয়ার অর্ধগলিত মরদেহ যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়, এসময় প্রেমিক হৃদয় লাপাত্তা। ফলে লামিয়ার বড় বোন মাকসুদা আক্তার বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে হৃদয় ফকিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ভুক্তভোগী লামিয়ার পরিবার ও পুলিশের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, হৃদয় ফকিরের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনিতে। তিনি রামপুরার বাসার পাশেই একটি গ্যারেজে গাড়ির পেইন্টিংয়ের কাজ করতেন। আর লামিয়া ছিলেন গৃহিণী। বিশেষ পড়াশোনা জানা না থাকলেও হাস্যোজ্জ্বল লামিয়া মোবাইলে টিকটিকে ভিডিও তৈরি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের খোরখোলা গ্রামে।

ADVERTISEMENT

মরদেহ উদ্ধার ও ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী রামপুরা থানার উপ-পরিদর্শক ইয়াকুব আলী জানান, ফ্ল্যাটটি তালাবদ্ধ ছিল। দরজা ভেঙে ভেতর ঢুকে ওই তরুণীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, লাশ উদ্ধারের তিন থেকে চার দিন আগে তার মৃত্যু হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বাসাটিতে স্বামী-স্ত্রী থাকতেন। তারা দুজনে একটি মোবাইল ব্যবহার করতেন। মরদেহের পাশেই সেটি পড়ে ছিল। খবর পেয়ে স্বজনরা বাসায় এসেছিলেন।

লামিয়ার বড় বোন মাকসুদা আক্তার বলেন, লামিয়ার প্রথম বিয়ে হয়েছিল পরিবারের ইচ্ছায়। নিজের ইচ্ছায় কয়েক মাস আগে হৃদয়কে বিয়ে করে লামিয়া। তারপর রামপুরায় সংসার শুরু করে। মাকসুদার অভিযোগ, হৃদয় তার বোনকে হত্যা করে ঘটনা ভিন্ন দিকে নিতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পালিয়েছে। তাকে গ্রেফতার করলেই সব রহস্য বের হবে।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে লামিয়ার আত্মহত্যার আলামত পাওয়া গেছে।লামিয়ার সঙ্গে হৃদয়ের সম্প্রতি মনোমালিন্য চলছিল।হৃদয় একটি গ্যারেজে গাড়ির রং মিস্ত্রির কাজ করতেন। সাংসারিক জীবনে তাদের অর্থনৈতিক টানাপোড়ন ছিল। যে রঙিন স্বপ্ন নিয়ে প্রথম স্বামীকে ত্যাগ করে লামিয়া হৃদয়কে বিয়ে করেছিলেন বাস্তবে তা হয়ত মেলেনি। পলাতক হৃদয় গ্রেফতার হলেই সব ধোঁয়াশা কাটবে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

x