মা - বাবার সাথে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে জাপানি দুই শিশু – Newsroom bd24.
ঢাকারবিবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

মা – বাবার সাথে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে জাপানি দুই শিশু

তাসকিয়া তাবাস্সুম ( ডেস্ক নিউজ)
সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১ ৯:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

 

বহুদিন পর জাপানি মা নাকানো এরিকো এবং বাংলাদেশি বাবা শরীফ ইমরান এর সাথে একবাসায় বেশ আনন্দে সময় কাটাচ্ছেন দুই কন্যা জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা।

 

গুলশানের ভাড়া করা বাসায় বাবা-মা’র সাথে আছেন তারা। চার রুমের ফ্ল্যাটে আগামী ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাবা-মায়ের সঙ্গে মনের আনন্দে সময় কাটাতে পারবেন তারা।

মা জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো,পেশায় চিকিৎসক। আর বাংলাদেশি নাগরিক শরীফ ইমরান,পেশায় একজন প্রকৌশলী। দুইজনের পরিচয় টোকিও’র একটি হাসপাতালে। পরিচয় থেকে পরিণয় । ২০০৮ সালে টোকিও’র একটি মসজিদে পারস্পরিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন দু’জন। ২০০৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তারা একসঙ্গে ছিলেন। একযুগের সংসারে জন্ম হয় তিন কন্যাসন্তান। কিন্তু এরিকো-ইমরান দম্পতি এখন আলাদা।সন্তানদের অভিভাবকত্ব পেতে মা জাপানের আদালতে এবং বাবা বাংলাদেশের আদালতে মামলা করেন। জাপানে এরিকোর দায়ের করা মামলাটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই ইমরান তার দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। মা এরিকো কন্যাদের ফিরে পেতে টোকিও থেকে উড়ে আসেন ঢাকায় এবং আইনজীবীদের পরামর্শে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

গত মঙ্গলবার হাইকোর্ট দুই মেয়ে শিশুকে নিয়ে মা নাকানো এরিকো ও বাবা শরীফ ইমরানকে এক বাসায় থাকার নির্দেশ দেন।  ঢাকা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে বলা হয়েছে বিষয়টি দেখভাল (মনিটরিং) করতে এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) বাচ্চাসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়। আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য রেখে আদালত বলেন, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণে রাখবে। কোনো পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ উঠলে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

 

আদালতের নির্দেশে গুলশান-১ নম্বরের একটি ভাড়া বাসায় বুধবার থেকে দুই শিশুসহ বসবাস করছেন মা এরিকো নাকানো ও বাবা ইমরান শরীফ । দুইজনই সন্তানদের দেখাশোনা করছেন। তবে এক ছাদের নিচে বসবাস করলেও তাদের বাবা মা কেউ কারো সঙ্গে কোনো কথাবার্তা বলছেন  না। উভয়েই উভয়কে এড়িয়ে চলছেন। শরীফ ইমরান গণমাধ্যমকে বলেন, একই বাসায় থাকলেও এরিকোর সঙ্গে তার কথা হয় না।

 

দুই পক্ষের আইনজীবী আশ্বস্ত করেছেন তারা ভালো আছেন, সন্তানদের সাথে ভালো সময় কাটাচ্ছেন,।তবে উভয় পরস্পর কোনো কথাবার্তা বলছেন না। বাবা ইমরান শরীফের নিয়োগ করা বাবুর্চি তাদের পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়াচ্ছেন। এরিকোর সুবিধার জন্য একজন দোভাষী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সার্বক্ষণিক পুলিশ সদস্য তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য রয়েছেন।

তবে ইমরান শরীফের আশঙ্কা, আদালতের রায় এরিকোর পক্ষে গেলে সন্তানদের নিয়ে তিনি জাপানে চলে যাবেন। আর কখনোই তিনি তার সন্তানদের দেখতে পাবেন না। ইমরান শরীফ উল্লেখ করেন, জাপানের আইন দুই অভিভাবকের যৌথ জিম্মা প্রথায় বিশ্বাসী নয়। শিশুরা যেন ধারাবাহিকভাবে এক জায়গায় থাকতে পারে, সেদিকেই মনোযোগ দেয়া হয় বেশি। এ আইনের ফলে শুধু যে বিদেশি নাগরিকেরা ভুগছেন তা-ই নয়, জাপানেও বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তানকে দেখতে পারেন না এমন অভিভাবকের সংখ্যা প্রচুর।