ঢাকাশনিবার , ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এক বাটনেই বেরিয়ে আসবে সব আর্থিক লেনদেনের তথ্য

নিউজরুম বিডি ২৪
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: বার
Link Copied!

 

 

এক বাটনেই বেরিয়ে আসবে সব আর্থিক লেনদেনের তথ্য

 

আর্থিক খাতে জালিয়াতি বন্ধ ও অর্থ লোপাটকারীদের শনাক্তে বহুমুখী তদারকি শুরু হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত ও বিশেষ তদন্তের পাশাপাশি প্রযুক্তিকেও কাজে লাগানো হবে। এর আওতায় এক ছাতার নিচে আসবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সব লেনদেন। ফলে একটি বোতাম টিপেই মিলবে জালজালিয়াত বা অর্থ লুটেরাদের লেনদেনের সব তথ্য।

 

এ লক্ষ্যে গঠন করা হচ্ছে ইন্টার-অপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফরম (আইডিটিপি)। যেখানে এক আইডিতে (জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর) গ্রাহকের সব হিসাব ও লেনদেনের তথ্য থাকবে। কেন্দ্রীয় গেটওয়ে দিয়ে হবে সব লেনদেন।

 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এ ধরনের কাঠামো কার্যকর হলে অর্থনৈতিক অপরাধ রোধে যোগ করবে নতুন মাত্রা। লেনদেন সহজ হবে। নগদ টাকার পরিবর্তে গ্রাহকরা অনলাইন লেনদেনে উৎসাহিত হবেন। ভূমিকা রাখবে কাগজের মুদ্রাবিহীন সমাজ (ক্যাশলেস সোসাইটি) গঠনেও, যা উন্নত দেশগুলোয় ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ১৩টি প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হলেও অক্টোবরের মধ্যে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর আওতায় আসবে। শুরুতেই যুক্ত হচ্ছে সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেড এবং তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান রিকারশন ফিনটেক লিমিটেড।

 

প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক, সিস্টেম এনালিস্ট ও উপপরিচালক পর্যায়ের তিন কর্মকর্তাও নিযুক্ত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি সামনে রেখে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯ টাকা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ব্যাংক আইডিটিপি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

 

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বহুমুখী নজরদারির পরও বন্ধ হচ্ছে না অস্বাভাবিক লেনদেন। বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইনে এসব চলছেই। নিয়ন্ত্রণে আসছে না অর্থ জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিং।

 

জঙ্গি অর্থায়ন হচ্ছে, সাইবার অপরাধের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের অনিয়ম তদন্তে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ তদারক সংস্থাগুলো। ফলে উন্নত বিশ্বের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে একই সার্ভারে সব ধরনের লেনদেনের তথ্য না থাকার আক্ষেপ ছিল বহুদিনের। এবার সেই আক্ষেপের কিছুটা হলেও অবসান হতে যাচ্ছে। একই ছাতার নিচে আসছে সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক, লিজিং কোম্পানি, মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানিসহ অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর আওতায় পড়বে।

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্ল্যাটফরমের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) ব্যবহার করবে ফিনটেক (ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি) প্রতিষ্ঠানগুলো। এই সার্ভিসের আওতায় রেমিট্যান্স আদান-প্রদান, মার্চেন্ট পেমেন্ট, বিল পরিশোধ, ই-কমার্স, এম-কমার্স, মেশিন-টু-মেশিন পেমেন্টসহ অর্থ হস্তান্তর ও লেনদেন করা যাবে।

 

এটি মূলত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লেনদেনে সেতুবন্ধ তৈরি করবে, যা একদিকে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনকে ত্বরান্বিত করবে, অন্যদিকে লেনদেনের যাবতীয় তথ্য একটি আইডিতে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে একটি বোতাম টিপেই যে কোনো গ্রাহকের সব ধরনের হিসাব ও লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাবে।

 

 

ads
adv
adv
ads

x