ঢাকাবুধবার, ২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৫১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হবিগঞ্জে সরকারি কলেজের আড়াই কোটি টাকা গায়েব

লিটন পাঠান, সিলেট প্রতিনিধি।
আগস্ট ৩১, ২০২১ ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
পঠিত: 103 বার
Link Copied!

 

 

হবিগঞ্জে সরকারি কলেজের আড়াই কোটি টাকা গায়েব।

 

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সরকারি কলেজের আড়াই কোটি টাকার হিসাব নেই। শিক্ষার্থীদের টাকা লেনদেনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি উঠেছে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। এ নিয়ে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সুশীল সমাজে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানা গেছে, প্রায় দুই বছরের অধিক সময় ধরে নবীগঞ্জ সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. সফর আলী। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আসার পর থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়েছে কলেজ। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায়সহ গুরুতর অভিযোগ রয়েছে মো. সফর আলীর বিরুদ্ধে।

 

এদিকে সম্প্রতি এইচএসসি পরিক্ষার্থীদের শিওর ক্যাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করলে টাকার পরিমাণ হিসাব করে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে নেমে আড়াই কোটি টাকার হিসাবে গড়মিল পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উত্তম কুমার দাশকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রবীণ এক কর্মচারী বলেন, কলেজ ফান্ডে টাকা না থাকার কারণে বিগত ৮ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না তিনি। তার দীর্ঘ ৩০ বছরের চাকরি জীবনে এমনটি ঘটেনি। পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাকে।

 

কলেজের এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, কলেজের কম্পিউটার অপারেটর নয়ন মণির মাধ্যমে শিওর ক্যাশের নামে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি ও বেতনের টাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সফর আলীসহ আরও দুই-তিনজন শিক্ষক মিলে ভাগ ভাটোয়ারায় লিপ্ত ছিলেন। প্রভাবশালী এসব শিক্ষকদের ইশারায় চলত সকল কাজ। অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের কাছে ছিলেন অসহায় ভয়ে কেউ কোনো কিছু বলার সাহস পেতেন না। নবীগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সফর আলী বলেন, কলেজের পক্ষ থেকে আমরা কয়েকজন শিক্ষক দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।

 

আড়াই কোটি টাকা গায়েব কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং তদন্ত কমিটির প্রধান উত্তম কুমার দাশ।তিনি বলেন, আড়াই কোটি টাকার বিষয়টি আমরা তদন্ত করেছি। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমেই বিস্তারিত জানানো হবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তম কুমার বলেন, খুব দ্রুতসময়ের মধ্যে প্রতিবেদন আপনারা পেয়ে যাবেন।