ঢাকাসোমবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৫৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অশান্ত হয়ে উঠেছে বরিশাল সিটি।

মামুন অর রশিদ (ডেস্ক ঢাকা)
আগস্ট ২০, ২০২১ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 24 বার
Link Copied!

 

             অশান্ত কেন বরিশাল সিটি।

 

  • সপ্তাহ ধরে চলা উত্তপ্ত বরিশাল শহরে অবশেষে বিস্ফোরণ ঘটলো। ধূমপানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের বাড়ির গেটে লাথি মারার ঘটনা ঘটে। এর কয়েকদিনের মাথায় ব্যানার-পোস্টার অপসারণ নিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটে এ নগরীতে।

 

বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)’র বাসায় দুই দফা হামলা, গুলিবর্ষণ ও নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে বুধবার রাতভর ছিলো উত্তপ্ত। এ সবের জেরে লঞ্চ-গাড়ি এবং বাজার বন্ধ থাকায় বৃহস্পতিবার কার্যত অর্ধদিবস অচল ছিল দক্ষিণাঞ্চল। দিন শেষে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।

এতে আরও জানান যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০ থেকে ২৫ জন কর্মচারী নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডে উপজেলা পরিষদ এলাকায় গিয়ে সদর আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার, বিলবোর্ড অপসারণের কাজ শুরু করে। এ সময় ইউএনওর কার্যালয় ও সরকারি বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের পরিচয় জানতে চান।

 

 

এরপরে তারা সকালে এসে কাজ করার জন্য বলেন। এ নিয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের বাগবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুর নেতৃত্বে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত, আতিকুল্লাহ মুনিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খানসহ শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। পরে সেখানে আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। তখন নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনওর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

জানা গেছে, এ সবের পেছনে রয়েছে দলীয় কোন্দল। বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর মধ্যকার শীতল রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব অবশেষে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া পৃথক মামলায়ই সিটি করপোরেশনের মেয়রকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শহরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় শহরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT

মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলামকে সিলেট রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি শাহাজাদা মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে ২৫ আগস্টের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বলা হয়েছে।

হামলার পর ইউএনও মুনিবুর রহমান জানান, উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে শোক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীমের ব্যানার-পোস্টার লাগানো ছিল। রাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব ছিঁড়তে আসে।

 

 

ADVERTISEMENT

রাতে লোকজন ঘুমাচ্ছে জানিয়ে তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বৃহস্পতিবার সকালে এগুলো ছিঁড়তে বলেন। এরপর তারা তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা ইউএনওর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। রাত সাড়ে ১০টা এবং ১১টায় দুই দফায় তারা হামলা চালায় বলে আরও জানান ইউএনও মুনিবুর রহমান।

এ বিষয়ে কথা বলতে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি।

তার ঘনিষ্ঠজনখ্যাত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, মেয়র বলেছেন আমার ব্যানার আগে অপসারণ করবে। এরপরও যে ঘটনা ঘটেছে এটা অনাকাক্সিক্ষত। মেয়র মহোদয় বরিশাল শান্ত ও সুশৃঙ্খল রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত তিন বছরে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। এখন যা ঘটছে তাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে মন্তব্য করেন।

ADVERTISEMENT

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস বলেন, একটি শান্ত শহরকে অশান্ত করতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ইউএনওর বাসায় কেউ হামলা করেনি। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। আমরা মনে করি, শোকের মাসে এটি একটি মানবতাবিরোধী কাজ। আমরা এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

 

 

এদিকে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া দুই মামলাতেই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

তার নির্দেশে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে বাসভবনে হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ইউএনও মুনিবুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ২৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭০ থেকে ৮০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরির্দশক (এসআই) মো. জামাল বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করে।

 

নিউজরুম বিডি২৪। 

 

 

ADVERTISEMENT

x