ঢাকারবিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৬:৪৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঐতিহাসিক নড়াইল জেলা।

মোঃ ইমদাদুল হক। (ডেস্ক রিপোর্টার )
আগস্ট ৫, ২০২১ ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 2 বার
Link Copied!

 

 

ঐতিহাসিক নড়াইল জেলা।

 

 

নড়াইল জেলার একটি সমৃদ্ধ রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস রয়েছে। নড়াইল জেলা অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী।

এই জেলার মানুষ ১৮৫৯-৬০ সালের নীল বিদ্রোহ, ১৯৪৬ সালের তেভাগা আন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত অনেক স্থান রয়েছে। যদি এই সব স্থানগুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয় তবে তা প্রাচীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

ADVERTISEMENT

নড়াইল পৌর এলাকার মাছিমদিয়ায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী এস এম সুলতানের চারু ও কারুকলা ইনস্টিটিউট। বিশ্ববরেণ্য শিল্প এস.এম. সুলতানের জন্মদিন (১০ই আগষ্ট, ১৯২৩ সাল) উপলক্ষে জেলায় সুলতান মেলা আয়োজন করা হয়। এই মেলা উপলক্ষে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এই সময় প্রচুর লোক সমাগম ঘটে এবং একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়।

নড়াইল জেলায় বেশকিছু ঐতিহ্যমণ্ডিত মসজিদ ও মন্দির আছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – গোয়াল বাথান গ্রামের ১৬৫৪ সালে নির্মিত মসজিদ, নলদিতে গাজীর দরগা, কদমতলা মসজিদ, উজিরপুরে রাজা কেশব রায়ের বাড়ি, জোড়বাংলায় আঠারশ শতকে নির্মিত রাধা গোবিন্দ মন্দির, লক্ষ্মীপাশায় কালিবাড়ি ও নিহিনাথ তলায় বরদিয়ার মঠ। এদের কয়েকটির বর্ণনা নিচে দেয়া হল।

নয়াবাড়ির পাতাল ভেদী রাজ প্রাসাদ : নড়াইল শহরের সাত মাইল উত্তরে নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত নয়াবাড়ী গ্রাম। এখানে রাজ প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করা যায়। প্রায় ২৭০ গজ দীর্ঘ ও ২৫০ গজ প্রশস্ত উঁচু স্থানটির চারদিকে একটি পরিখার নীচুখাত লক্ষ্য করা যায়। রাজাবাড়ীর নীচ থেকে নবগঙ্গা নদীর ঘাট পর্যন্ত একটি সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা হয়েছিল । চুন সুড়কির গাথুনি বিশিষ্ট সেকেলে পাতলা ইটের খিলান দ্বারা এই সুড়ঙ্গ পথ নির্মিত।

শেখহাটি/জগন্নাথপুর : ভৈরব নদের তীরে প্রাচীন গ্রাম শেখহাটি। ভৈরব ছিল প্রমত্ত। পাশেই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে

ADVERTISEMENT

গড়ে উঠেছিল জন অধ্যুষিত নগরী, যাকে ঐতিহাসিক মীনহাজউদ্দীনের “তবক্ত-ই-নাসিরীতে” বলা হয়েছে শংখনট। শংখনটেরই অপভ্রংশ শেখহাটি। এই প্রাচীন নগরীর বহু নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এখানে ছিল সেন রাজাদের বাগড়ি প্রদেশের রাজধানী। বৃদ্ধ রাজা লক্ষণ সেন ভৈরব নদী পথে নৌকায় উপস্থিত হন এবং শেষ জীবনে এখানেই ছিলেন। শেখহাটি, তপনভোগ, পচিশা, জগন্নাথপুরে প্রায় ৮/১০ মাইল এলাকায় আছে উঁচু ভূমি। মাঝে মাঝে বিরাটকায় জলাশায়ের খাত।

 

উঁচু ভূমি খুড়ে পাওয়া যায় ইটের স্তূপ, যা সুরকি আর চুনে ভরা। শেখহাটি গ্রামের বিজয়তলায় জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে আছে ভুবনেশ্বরী মন্দির। মন্দিরটি কত বছর আগে তৈরি জানা নেই। মন্দিরের মূল্যবান ভুবনেশ্বরী বিগ্রহ বর্তমানে রাজশাহীর বরেন্দ্র সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত। শেখহাটির আফরা গ্রামে ভৈরব ও চিত্রাসঙ্গমে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তীর পুণ্যস্নান ও মেলা আজও সজীব হয়ে ওঠে অসংখ্য হিন্দু পুণ্যার্থীদের আগমনে । দূর-দূরান্ত থেকে আসে বহু মানুষ। বলা হয়ে থাকে এই মেলার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন সেন রাজারা।

 

নলদী গাজির দরগাহ : সব ধর্মের মানুষের শ্রদ্ধায় আজও নলদীগাজীর বাড়ি প্রাণবন্ত। নলদী বাজারের পশ্চিমে একটি ঈদগাহ, একটি গোরস্থান এবং একটি দরগাহর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। জনশ্রুতি আছে খান জাহান আলীর সঙ্গীদের একজন কাজি উপাধিযুক্ত ব্যক্তি এখানে বসতি করেছিলেন।

 

গোয়ালবাথানের মসজিদ প্রায় তিনশ’ বছর আগে নড়াইল থানার গোয়াল বাথান গ্রামে একটি সুন্দর মসজিদ করেছিলেন মুনসি হয়বাতউল্লাহ এবং তার ভাই মুনসি একরাম উল্লাহ। জেলার অন্যতম প্রত্ন সম্পদ হিসেবে বিবেচিত মসজিদটি ১৮৬৪ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে সংস্কার করা হয়।

 

 

 

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

x