কিশোর গ্যাং একটি ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি  । – Newsroom bd24.
ঢাকাশনিবার , ৩ জুলাই ২০২১

কিশোর গ্যাং একটি ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি  ।

কলাম লেখক ঃ সৈয়দ মিজানুর রহমান।
জুলাই ৩, ২০২১ ৩:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কিশোর গ্যাং একটি ভয়ঙ্কর সামাজিক ব্যাধি  ।

ভয়ঙ্কর, কথাটি শুনলেই নিজের অজান্তেই আঁতকে উঠি আমরা। অথচ এই আতঙ্ক নিয়ে এই চার দেয়ালের মধ্যেই আমাদের বসবাস। কখনো ভাবতেই পারিনি এই ভয়ঙ্কর আতঙ্ক আমাদের এই পরিবারের ই সদস্য ।

কিভাবে এদের উত্থান

প্রথমত ভার্চুয়াল জগতে একটি আইডি খোলে এরা আর পাড়ার উঠতি বয়সী তথাকথিত স্টাইলিস্ট ও স্কুল ড্রপ আউট ছাত্র সহ বখে যাওয়া কিশোরদের মার্ক করে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়।

ক্রমান্যয়ে ভার্চুয়াল সখ্যতা বাড়তে থাকে। এবার দেখা করার পালা, বিভিন্ন স্কুল কলেজের গেটে কিংবা পাড়া-মহল্লার আনাচে-কানাচে বিভিন্ন গলিতে ছোটখাটো আড্ডার শুরু।

প্রথমে ইভটিজিং দিয়েই কর্তৃত্ব জাহিরের প্রচেষ্টা, পাশাপাশি অহেতুক পাড়া-মহল্লায় উত্তেজনা সৃষ্টি ছোটখাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, একসময় অযথাই নিজেদের দক্ষতা আর বেশি জোর দেখাতেই অতি উৎসাহী হয়ে পাড়ায় পাড়ায় কর্তৃত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা ।

পাড়ার বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে স্প্রে দিয়ে গ্যাংয়ের নাম লিখে জানান দিচ্ছে তাদের অস্তিত্ব কিংবা পাঁচ-ছয়টা গাড়ি বা মোটরসাইকেল নিয়ে অযথাই মহল্লায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আর এটাই ওদের একটা ট্রেন্ড ভেবে নিচ্ছে ওরা।

এই কিশোর গ্যাং তৈরি হবার পরপরই অন্য এলাকার গ্রুপগুলোর সাথে তৈরি হচ্ছে সংঘাত, প্রতিযোগিতা চলে আসছে পেশিশক্তির বাড়তি আয়ের এর নেশা।

আর বাড়তি  শক্তি যোগ করার নেশায় শুরু হলো আর্মস ক্যারি করা। পাড়া-মহল্লায় ফাঁকা গুলিবর্ষণ আর শোডাউন করে কর্তৃত্ব জাহিরের চেষ্টা ।

এদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছে নিজেদের কাজ। কেউ হয়তো মাদক সরবরাহ, কেউ আর্মস ক্যারি , বোমাবাজি, ইভটিজিং সহ শঙ্কা তৈরীর নেশায় এরা বুদ।

চুক্তিবদ্ধ হয়ে এরা ভয়ঙ্কর কাজ করতেও দ্বিধা করে না। ঠিক এমনই সময় এই সমাজের কোনো-না-কোনো কালো হাত তাদের ছত্রছায়ায় নিয়ে আসে। শুরু হয় তাদের নতুন জীবন, অন্ধকারের জীবন।

ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পরিবার থেকে সমাজ থেকে আর তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে। কেউ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলখানায়। কেউবা প্রতিপক্ষের হামলায় বিভৎসভাবে খুন হয়ে পড়ে থাকে ডাস্টবিনের পাশে। সমাপ্তি ঘটে একটি কালো অধ্যায়ের।

একটি পরিবার উপহার পায় সারা জীবনের কান্না। আর কালো হাত? সেতো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।

সমাজবিজ্ঞানী রাশেদা এরশাদ নাসির এর মতামত অনুযায়ী মূলতঃদুটি কারণে কিশোররা এসব গ্যাং সংস্কৃতি তে ঢুকে পড়েছে।

প্রথমত ঃমাদক ও অস্ত্রের দাপট সহ বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।

দ্বিতীয়তঃ এখনকার শিশু-কিশোররা পরিবার, সমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ যথেষ্ট মনোযোগ পাচ্ছে না।

অপরাধী হবার প্রবণতা পরিবার থেকেই বন্ধ করতে হবে। শিশু-কিশোরদের একাকী বা বিচ্ছিন্ন না রেখে যথেষ্ট সময় দেয়াসহ তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। তাাহলেই সমাজ থেকে এ-ই  কিশোর গ্যাং নির্মুল করা সম্ভব।

নিউজরুম বিডি২৪.