ঢাকাশুক্রবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:৪৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সর্বোচ্চ আদালতে ১৫ মাসের কারাদণ্ড প্রাপ্ত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট “জ্যাকব জুমা”

তাসকিয়া তাবাস্সুম।
জুন ৩০, ২০২১ ১:১৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 97 বার
Link Copied!

দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা সর্বোচ্চ আদালতে ১৫ মাসের কারাদণ্ড প্রাপ্ত হয়েছেন। ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আদালত অবমাননা করার অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার এই দণ্ড কার্যকর হয়।
৭৯ বছর বয়স্ক জ্যাকব জুমা কে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি শিশিখাম পেপে বলেন এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কিংবা আদালত কিছুই করতে পারবেনা। কারণ তিনি আদালত অবমাননার অপরাধী দায়ী। জুমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করছিলেন দেশটির উপপ্রধান বিচারপতির রেমন্ড জোনডো। গত ফেব্রুয়ারীতে, তদন্তের স্বার্থে ডাকা হলে হাজির হননি জুমা। তিনি দাবি করেছিলেন ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জেরেই রেমন্ড জোনডো তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন।

এই আদালত অবমাননা করার দায়ে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে জ্যাকব জুমার বিরুদ্ধে। তারই সূত্র ধরে ২০১৮ সালে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে তিনি ইতি টানেন ৯ বছরের শাসনকাল।

জুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এমনকি ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়াও তার প্রশ্রয়েই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ‘গুপ্ত’ পরিবার রাজনীতিতে বেপরোয়া হস্তক্ষেপ করে বলে অভিযোগ আনা হয়।প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের তিন ভাই অজয় গুপ্ত, অতুল গুপ্ত ও রাজেশ ওরফে টনি গুপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা শুরু করেন। দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনীতিকদের সঙ্গে পরিবারটির ঘনিষ্ঠতা সবার সামনে আসে ২০১৩ সালে।

তবে জ্যাকব জুমা বরাবরই বলে আসছেন, বিদেশি কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা এক দশক ধরেই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করছিল। গুপ্ত পরিবারের হাতে তিনি দেশ তুলে দিয়েছেন, এমন সব অভিযোগই মিথ্যা।
জ্যাকব জুমা সব অভিযোগ অস্বীকার করলেও গুপ্ত পরিবারের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক কখনো অস্বীকার করেননি। তিন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভাইদের এ পরিবারের সঙ্গে জুমা পরিবারের সম্পর্ক এতটাই গভীর ছিল যে, একসময় দুটি পরিবারকে একসঙ্গে ‘জুপ্তা’ বলা হতো।গুপ্ত পরিবারের মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানি জুমার শাসনামলে সরকারি বড় বড় প্রকল্পের কাজ পেত। এ ক্ষেত্রে বলা যায় তারা একচ্ছত্র ছিল। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে জ্যাকব জুমার ছেলে দুদুজানেকেও নিয়োগ দিয়েছিল তারা।