ইরান সহযোগিতা করুক বা না করুক, হরমুজ প্রণালী ‘খুব শিগগিরই’ খুলে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তেহরানের অবরোধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যদিও ৭ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরপরই এই প্রণালী খুলে দেওয়ার কথা ছিল।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে শান্তি আলোচনার আগে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘উপসাগর খুলে দেবে’। এ কাজে অন্যান্য দেশও সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “এটা সহজ হবে না। তবে আমি বলব, আমরা খুব শিগগিরই এটাকে (হরমুজ প্রণালী) খুলে দেব।”
যদিও কীভাবে ওয়াশিংটন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘উন্মুক্ত’ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। তবে প্রণালীতে ইরানের টোল আরোপের পরিকল্পনা মেনে নেবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে সমঝোতা হলেও হরমুজ দিয়ে জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের জন্য ফি আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প স্প্রিংসের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “তারা এটা করতে চাইলেও আমরা হতে দেব না।”
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র দুটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের পাঁচটি থেকে কম। বাজার বিশ্লেষণ সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু থাকা মাত্র ২২টি জাহাজ প্রণালী ত্যাগ করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে দৈনিক প্রায় ১৩৫টি জাহাজ চলাচল করত।
লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের তথ্যমতে, প্রণালীটি অবরুদ্ধ থাকায় উপসাগরে ৩২৫টি ট্যাংকারসহ এখনও ৬০০-র বেশি জাহাজ আটকে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসবে।

