চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় কলেজছাত্র শাহীন আলীকে মারধরের অভিযোগে রাজশাহী পলিটেকনিক শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) শাহমখদুম থানায় এ মামলা করেন আহত রাজশাহী কলেজের ছাত্র শাহীন আলী।
মামলার আসামিরা হলেন- রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল মন্ডল আহাদ, ওয়ার্ড যুবদল কর্মী মো. পলাশ আলী, ওয়ার্ড ছাত্রদল কর্মী আজিজুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ জন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ৩ জুলাই জুমার আগে শাহীন আলী শাহমখদুম থানা মোড়ের একটি বিকাশের দোকানে লেনদেন করতে যান। কিছুক্ষণ পরেই আসামিরা একজন বৃদ্ধকে মারতে মারতে বিকাশের দোকানের সামনে নিয়ে আসেন। তারা দুলাল মন্ডল নামের ওই বৃদ্ধকে একটা মোবাইল নম্বরে ৩০ হাজার টাকার বিকাশ দিতে চাপ দিচ্ছিলেন। দুলাল মন্ডল আসামিদের বলছিলেন, তার কাছে ৩০ হাজার টাকা নেই। তার মেয়ের বিকাশে টাকা আছে। বাসা থেকে ফোন এনে দিতে হবে। ওই সময় বৃদ্ধ সাহায্যের জন্য পথচারীদের ডাকছিলেন। কিন্তু আসামিদের ভয়ে কেউ এগিয়ে যায়নি। আসামিরা বৃদ্ধকে মারধর করছিলেন আর মারতে মারতে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন।
এদিকে বৃদ্ধের আকুতি দেখে কলেজছাত্র শাহীন এগিয়ে গিয়ে বৃদ্ধের ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রতিবাদ করেন। এ সময় শাহীন নির্যাতনের ভিডিও করা শুরু করলে সন্ত্রাসীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে সড়কের ওপর ফেলে দিয়ে বাঁশের লাঠি ও কাঠের চয়লা দিয়ে বেধকড় পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তার মোবাইলটি আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলে।
এজাহারে শাহীন আলী আরও উল্লেখ করেন, বেধড়ক পেটানোর ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ গুরুতর জখম হয় এবং এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে শাহীন আলী গত ৭ জুলাই আরএমপির শাহমখদুম থানায় মামলা করতে যান। তবে পুলিশ ওইদিন মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ৮ জুলাই পুলিশ শাহীনকে ফোন করে এজাহার লিখে জমা দিতে বলেন। এজাহার দেওয়ার পর ওইদিন চাঁদাবাজি, মারধর ও প্রাণনাশের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়।
শাহীন আলী বলেন, আসামিরা বৃদ্ধকে মারধর করে চাঁদাবাজি করছিলেন। আমি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করেছি। ফলে চাঁদাবাজরা আমাকেই বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে ও আমার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের মোবাইল ফোনটি ভেঙে ফেলেছে। পুলিশ দ্রুত সময়ে আসামিদের গ্রেফতার করবে বলে আশা আমি করছি।
অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ও মামলার প্রধান আসামি শাকিল মন্ডল আহাদের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে যাকে নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত সেই বৃদ্ধ দুলাল মন্ডল বলেন, চাঁদাবাজরা আমাকে ফাঁদে ফেলে প্রথমে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। জোরপূর্বক ধরে এনে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নিয়েছে। মেয়ের বিকাশ থেকে টাকাটা পরিশোধ করে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই। শাহীন আলী প্রতিবাদ করায় তাকেও মেরেছে। চাঁদাবাজরা আমার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি রেখে দিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপির শাহমখদুম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলীম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। মামলা রুজুর পর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি চাঁদাবাজির। তবে পেছনে কি কারণ আছে সেটাও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।