
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, অপরাধী পারাপার, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান রোধ এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কুষ্টিয়া বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের পর সীমান্তের ‘জিরো লাইন’ এলাকায় জনসাধারণের চলাচল নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অহেতুক সীমান্তের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৌলতপুর সীমান্তসংলগ্ন ২১টি বর্ডার আউটপোস্টে (বিওপি) অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তজুড়ে ২৪ ঘণ্টা টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি স্পর্শকাতর হওয়ায় বিজিবি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
দৌলতপুর উপজেলা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গী ও করিমপুর থানার সঙ্গে সীমন্তযুক্ত। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে পদ্মা নদীর জলসীমা রয়েছে ১৭ দশমিক ১ কিলোমিটার। স্থলসীমান্তের ৫৮ দশমিক ৮ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও এখনো ২২ দশমিক ৭ কিলোমিটার সীমান্ত কাঁটাতারবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, নির্বাচনকালে কোনো চিহ্নিত অপরাধী যেন সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগ বা দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশ ইনের মতো ঘটনা এড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় কাজ করছে বিজিবি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু নির্বাচনকাল নয়, সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সে জন্য সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
এ ছাড়া সন্দেহভাজন কাউকে দেখা গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।