ঢাকাশুক্রবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৫৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুন্সীগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ২০, ২০২৫ ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 39 বার
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ, বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার লতুব্দী ইউনিয়নের কংশপুরা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লতুব্দী ইউনিয়নের কংশপুরা গ্রামের খলিলুর রহমান ও পূর্ব রামকৃষ্ণদী গ্রামের মো. জহিরের মধ্যে হাউজিং প্রকল্প ও মাটি কাটার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে শুক্রবার সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জহিরের সমর্থকরা প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

সংঘর্ষের সময় টেঁটা, লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা খলিলুর রহমানের সমর্থক রামকৃষ্ণদী গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে হামলাকারীদের টেঁটার আঘাতে সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মাটি কাটার কাজে বাধা দেওয়ায় জহির তার লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এ সময় ভাঙচুরের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার লুটপাট করা হয় এবং তার সাতজন সমর্থক টেঁটাবিদ্ধ হন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. জহির বলেন, তার সঙ্গে বিরোধ অনেক পুরোনো হলেও আজকের সংঘর্ষে তিনি জড়িত নন। কংশপুরা গ্রামের খলিল ও দেওয়ানবাড়ির লোকজনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

লতুব্দী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দীন খোকন জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে জমি ভরাটকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। আজকের ঘটনায় বেশ কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ হান্নান বলেন, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।