ঢাকাশুক্রবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৫৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মাদুরো আমার নাচের ভঙ্গি নকল করতেন, মেলানিয়ার পছন্দ না: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জানুয়ারি ৭, ২০২৬ ১:২৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 16 বার
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার আটককৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জনসম্মুখে তার নাচের ভঙ্গি নকল করার চেষ্টা করতেন। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের নবনামকরণকৃত ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’-এ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প ওই অনুষ্ঠানে মাদুরোকে একজন ‘সহিংস লোক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে মাদুরো তার শাসনামলে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা ও নির্যাতন করেছেন।

মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে মাদুরোর নাচানাচি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের কাছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা দিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, মাদুরো মঞ্চে উঠে তার নাচের ভঙ্গি নকল করার চেষ্টা করলেও তিনি ছিলেন মূলত একজন স্বৈরশাসক। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে কারাকাসে একটি নির্যাতনকক্ষ ছিল যা এখন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যদিও এই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।

২০২৫ সালের শেষ দিকে যখন ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ছিল, তখন মাদুরোকে বিভিন্ন সমাবেশে ‘নো ওয়ার, ইয়েস পিস’ স্লোগানের টেকনো রিমিক্স গানের সঙ্গে নাচতে দেখা যেত। অন্যদিকে ট্রাম্প নিজে তার নির্বাচনি সমাবেশগুলোতে সচরাচর ‘ওয়াইএমসিএ’ ডিস্কো গানের সঙ্গে নেচে থাকেন। তবে ট্রাম্প হাসিমুখে জানান যে, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তার এই নাচ একদমই পছন্দ করেন না।

বক্তব্যের বাকি অংশে ট্রাম্প গত শনিবার মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের জন্য পরিচালিত বিশেষ বাহিনীর অভিযানের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং একে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেন। তবে তার আলোচনার বড় একটি অংশ জুড়ে ছিল ২০২৬ সালের আসন্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন। ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে নিজের নীতিগত অগ্রাধিকারের তালিকা তুলে ধরেন এবং ভোটারদের মন জয়ে নিজের ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ এবং দেশটির ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা না দিলেও, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।