ভেনিজুয়েলায় আসা-যাওয়া করা সব নিষিদ্ধ তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর ‘সম্পূর্ণ’ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক বার্তায় তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন।
ট্রাম্প বার্তায় বলেছেন, ‘দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বড় নৌবহর (আরমাডা) দিয়ে ভেনিজুয়েলা সম্পূর্ণরূপে বেষ্টিত। আমাদের সম্পদ চুরিসহ সন্ত্রাসবাদ, মাদক চোরাচালান ও মানব পাচারসহ আরো অনেক কারণে ভেনিজুয়েলার সরকারকে একটি বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তাই আজ আমি ভেনিজুয়েলায় আসা-যাওয়া করা সব নিষিদ্ধ তেল ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর সম্পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দিচ্ছি।’
এদিকে ঘোষিত অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ভেনিজুয়েলা সরকার একটি বিবৃতি জারি করে বলেছে, তারা ট্রাম্পের ‘ভয়াবহ হুমকি’ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির সরকার বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের দেশের সম্পদ চুরি করার লক্ষ্যে ভেনিজুয়েলার ওপর সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে একটি নৌ অবরোধ আরোপ করতে চাইছেন।’
এর আগে, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছিলেন, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি ট্যাঙ্কার জাহাজ ‘চুরির’ ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের ‘জলদস্যুতা ও তেল লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে বিশ্ব জেগে উঠবে’। মার্কিন বাহিনী ভেনিজুয়েলার উপকূল থেকে তেল ট্যাঙ্কারটি আটক করে জাহাজটিকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস রাজ্যে নিয়ে গেছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনিজুয়েলার কাছে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরে কয়েক ডজন নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়ে কমপক্ষে ৯০ জনকে হত্যা করেছে। যা আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে সমালোচনা করেছেন।

