ঢাকাসোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:০৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘর-জমি, আতঙ্কে হাজারো মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ১৫, ২০২৬ ১২:২০ অপরাহ্ণ
পঠিত: 42 বার
Link Copied!

উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জামালপুরজুড়ে আবারও শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। ইসলামপুর উপজেলার মন্নিয়াচর এলাকায় নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও নানা স্থাপনা। নদীর পাড়ে বসবাসকারী হাজারো মানুষ দিন কাটাচ্ছেন চরম আতঙ্কে। ভাঙন এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তার।

যমুনা নদীর উত্তাল স্রোত যেন কেড়ে নিচ্ছে মানুষের বহু বছরের স্বপ্ন। প্রতিদিন একটু একটু করে নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা আর জীবিকার শেষ সম্বল। নদীভাঙনের ভয় এখন উপজেলার হাজারো পরিবারের নিত্যসঙ্গী।

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের যমুনা নদীর মন্নিয়াচর এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের বাঁধ নির্মাণ করেও ভাঙন ঠেকাতে পারছেন না স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং না করলে ফসলি জমির পাশাপাশি স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

মন্নিয়াচরের বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম জানান, দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে না পারলে ৫০ বছর বয়সী এই চরের অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে, নদীভাঙনে এলাকার অনেক মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছে। একই এলাকার আফসার আলী বলেন, বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেও কোনো প্রতিকার হয়নি। স্থানীয়দের উদ্যোগে বাঁশ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে কিছু জায়গায় রক্ষা হলেও ৪০০ মিটার পাড় ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না।

মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয় হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হলেও স্থায়ীভাবে নদীশাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নদীভাঙন শুধু মাটি নয়, কেড়ে নিচ্ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি আর ভবিষ্যৎ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জামালপুরের আরও অনেক পরিবার হারাতে পারে তাদের শেষ আশ্রয়টুকুও।